২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

কর্মক্ষেত্রে আবেগ

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৪, ২০১৮, ২:১২ অপরাহ্ণ


আমার এক কলিগ হঠাৎ আমার রুমে এসে কান্না শুরু করে দিলেন। না আমি তাকে থামাতে পারছি না বুঝতে পারছি যে ব্যাপারটা আসলে কি হয়েছে। তিনি কান্না থামাচ্ছেন না। মোটামুটি কেলেঙ্কারি কাণ্ড। অনেক কষ্টে তাকে থামিয়ে, তার কান্নার করার কারণ বের করলাম। শুনে তো আমি অবাক! এই কারণে কান্নাকাটি!? দেখুন, কান্নাকাটি করা ভালো। এতে করে কষ্ট কিছুটা হালকা হয়। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে এমন ঘটনা সবাইকেই বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলে দেয়। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ঠিক থাকলে স্ট্রেস এবং অন্যান্য কষ্টদায়ক ইমোশনগুলো স্থান নেয় না। আমরা সবাই জানি, ইমোশন কন্ট্রোল কথা সহজ কথা নয়। কেবল কর্মক্ষেত্রের ভালো পরিবেশই একটি প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পারফর্মেন্স এনে দিতে পারে।

“Accountemps” নামক একটি Staffing and Recruiting ফার্ম একটি জরিপে বলেছেন, ‘কর্মক্ষেত্রে ১০ জনের মধ্যে চারজনই (শতকরা ৪৫ জন) বিভিন্ন কারণে কান্নাকাটি করেন এবং সাথে সাথে শতকরা ৫২ জন তাদের temper lose করে সামান্য বিষয় নিয়ে চিৎকার চেঁচামিচি করেন।’

মানব সম্পদ উন্নয়ন (এইচ আর) এর দৃষ্টিকোণ থেকে, কর্মক্ষেত্রে যারা হতাশার অনুভূতি প্রকাশ করে এমন কর্মীদের সাথে যেকোনো ধরনের আচরণ অথবা বাক্যালাপে সর্বদা সতর্ক থাকা উচিৎ।
কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের ইমোশনাল বস এবং সহকর্মীদের কিভাবে হ্যান্ডেল করবেন তার কিছু পরামর্শ নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১.কর্তৃত্ব-ফলানো বসঃ
“বস” শব্দটাই যেন প্রত্যেক কর্মীকে ভয় পাইয়ে দেয়। আর সেই বস যদি হয় খিটখিটে এবং সব বিষয়ে নাক গলানো স্বভাবের তাহলে তো আর গতি নাই। আপনার ভাগ্য যদি খারাপ হয় তাহলে মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট লেভেলের বস আপনার জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে। এই ধরনের বসরা সব সময়ই আপনাকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করবে। যা এক সময় আপনার কাছে অসহ্য হয়ে দাড়াবে এবং অবশেষে আপনি আপনার পারফর্মেন্স হারাতে বসবেন এবং আপনার জীবনটা স্ট্রেস-এ পরিপূর্ণ হতে থাকবে।

তাহলে আপনি কি করবেন এবার? এইচ আর এর কাজ হবে এই ধরনের বসের সাথে কর্মীদের একটা ভালো আন্ডার স্ট্যান্ডিং তৈরির জন্য এইচ আর এর একজন প্রতিনিধিসহ বস এবং কর্মীর মধ্যে ফেইস টু ফেইস বার বার আলোচনায় বসানো। যাতে করে দুজনের মধ্যে কাজের বিশ্বস্ততা তৈরি হয়।
কোনভাবেই কোনও মতামতে যেন দ্বন্দ্ব তৈরি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। দুইজনের মধ্যে কাজের স্বচ্ছতা আসলেই রিলেশনের বিশ্বস্ততা চলে আসবে।

২.যুদ্ধপ্রিয় সহকর্মীঃ
এটা সত্য যে সবার সাথে সবার খাপ খায় না। একই প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন মানুষ কাজ করে। প্রত্যেকেরই আচার ব্যবহারের ভিন্নতা রয়েছে। এটাই বাস্তবতা। আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ হয়তো কাজের উপযোগী কিন্তু এই ধরনের সহকর্মীদের কারণে প্রতিষ্ঠানের পারর্ফমেন্সে আঘাত হানে।

এই ক্ষেত্রে একজন এইচ আর প্রতিনিধি ওই ধরনের কর্মীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সে কি বলতে চায় তা গুরুত্ব সহকারে শুনবেন এবং তাকে আশ্বস্ত করবেন যে যুদ্ধ বিগ্রহ না করেও নানাবিধ পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে তার চাওয়া এবং তার মতামতের গুরুত্ব পেতে পারেন। এ ছাড়াও বারবার কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে ওই কর্মীর লিডার কর্মীর আচার ব্যবহার পরিবর্তন করতে পারেন। তবে এই ক্ষেত্রে লিডারকে অনেক ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হতে পারে, যা তাকে মেনে নিতে হবে।

৩.The innocent error
সব শেষ। একটি ই-মেইল অনেক কষ্টে সম্পূর্ণ লিখে ফেলেছেন। কয়েকবার চেক করা হয়েছে। এখন সেন্ড বাটনে ক্লিক করবেন এবং করেও ফেলেছেন। কিন্তু হায়! পরে দেখলেন ছোট্ট একটা ভুল রয়ে গেছে। এই ভুল আপনার অনিচ্ছাকৃত ছিল। কিন্তু দেখা গেল আপনার বস অথবা সহকর্মী অথবা ওই ব্যক্তি যাকে ই-মেইলটি পাঠিয়েছেন তিনি এ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড বসিয়ে ফেলেছেন।

চিৎকার বা হট্টোগোল করার ফলে অন্যদের মাঝে আরো ভয় ঢুকে যায় এবং স্ট্রেস তৈরি হয়। এতে করে সুষ্ঠ কর্ম-পরিবেশ বিরাজ করে না। এক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য ওই বস অথবা সহকর্মী অথবা ওই ব্যক্তি যাকে ই-মেইলটি পাঠিয়েছে তাদের সাথে বসে ভুল স্বীকারের স্বীকারোক্তি নেওয়া এবং এই ভুলটি যে বড় ধরনের ভুল নয় তা বোঝানো। এর ফলে কম্পানির বড় ধরনের কোনও ক্ষতি হয়নি তাও নিশ্চিত করা। সুতরাং এইচ আর এমন একটি কর্ম-পরিবেশ তৈরি করবেন যেখানে সামান্য অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলোকে নিয়ে বেশি মাতামাতি না করে সেগুলোকে আরো প্রফেশনালী হ্যান্ডেল করতে হবে।

৪. The personal emergency
ব্যক্তিগত সকল প্রয়োজন মিটানোর জন্য আমরা চাকরি করি এবং চাকরিটি সঠিকভাবে করতে পারলেই কেবল কম্পানির উন্নতিতে সাধন করা সম্ভব। এটা ভাবলে চলবে না যে, কারো কোন personal emergency থাকবে না। প্রত্যেকেরই personal emergency আছে। কিন্তু দুঃভাগ্যবসত আমরা যারা বস অথবা সহকর্মী তারা অন্যের personal emergency গুলো খুবই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যভাবে দেখি এবং এমনভাবে রিএ্যাক্ট করি যেন এমন কোনও personal emergency আমাদের জীবনে কখনও ঘটেনি এবং এর জন্য আবার কম্পানি কেন সাফার করবে!?

এক্ষেত্রে এইচ আর পলিসিগুলো কিছুটা বাস্তবমুখী হওয়া উচিৎ। Personal emergency কে emergency হিসেবে মূল্যায়ন করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তবে প্রত্যেক কর্মীকে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে যে তার অনুপুস্থিতি কাজের পরিবেশকে বা তার পারর্ফমেন্সকে কোনভাবেই ক্ষতি করবে না।

৫.কাজের চাপঃ
প্রচণ্ড কাজের চাপ মানুষের হিতাহিত জ্ঞানকে সংকুচিত করে ফেলে। এমন অস্বাভাবিক কাজের ফলে মানুষ সম্পূর্ণ স্ট্রেসের মধ্যে ডুবে যায় এবং এর ফলে তার ওয়ার্কলাইফ ব্যালেন্স ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনও দেখা গিয়েছে যে অনেক কর্মী প্রচন্ড কাজের চাপে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। সুতরাং এটা খুবই ভয়াবহ একটি বিষয়।

এক্ষেত্রে এইচ আর প্রত্যেক কর্মীর কাজকে সঠিক নিয়মে ভাগ করে দিবেন। যদি কোনও বিভাগে কর্মীর সংখ্যা কম থাকে তবে সেই বিভাগে কর্মী, প্রয়োজন মাফিক নিয়োগের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মীর ওয়ার্কলাইফ ব্যালেন্স ঠিক করে দেওয়া এইচ আর এর অন্যতম দায়িত্ব। ম্যানেজমেন্টকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে কারো ওপর বেশি পরিমাণ কাজ চাপালেই যে ভালো পারর্ফমেন্স দিতে পারবে এমনটি নয় বরং এর ফলে ওই ব্যক্তির অথবা বিভাগের অথবা সমগ্র প্রতিষ্ঠানের পারর্ফমেন্সে ধস নামতে পারে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT