২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ১:১৭ অপরাহ্ণ


ওসমান গনি (কক্সবাজার প্রতিনিধি) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম রাজশাহীতে ‘বদলী জনিত বিদায় সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা জজের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) তামান্না ফারাহর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এএইচএম মাহমুদুর রহমান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেবুন্নাহার আয়শা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোঃ নুর ইসলাম, পুলিশ সুপার (সদ্য বদলী) ড. একেএম ইকবাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ ছৈয়দ মুহাম্মদ ফখরুল আবেদীন, ভারপ্রাপ্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব কুমার বিশ্বাস, যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ (সদর) মাহমুদুল হাসান, সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর, সিনিয়র সহকারী জজ আলাউল আকবর, বেগম খাইরুন্নেছা, মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী, সহকারী জজ মোছাম্মৎ নুসরাত জামান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শ্রীমতি মৈত্রী ভট্টাচার্য্য, সাজ্জাতুন নেছা, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাং হেলাল উদ্দিন, রাজীব কুমার দেব, মোঃ তারেক আজিজ, সুশান্ত প্রসাদ চাকমা, মোহাম্মদ রেজাউল হক, জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মো. ইছহাক (জিপি), জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রশীদ আমিন (সোহেল), জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম আব্বাস উদ্দিন, নাজির মোহাং হেফাজুর রহমান, চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মুঃ শাহজাহান এবং বেঞ্চ সহকারী মোঃ নুরুল হুদা।
সকল বক্তার একটাই উচ্চারণ, ‘স্যার (মীর শফিকুল আলম) আদর্শের উজ্জল দৃষ্টান্ত, ন্যায় বিচারের প্রতীক ও উদার প্রকৃতির মানুষ। তার মন ছিল সাগরের মতো বিশাল, আকাশের মতো বিস্তীর্ণ। তাকে হারিয়ে আমরা একটা বটবৃক্ষ হারালাম।’
সবার কামনা, বিদায়ী জেলা জজ মীর শফিকুল আলম যেন দেশের সর্বোচ্চ বিচারকের পদ অলংকৃত করেন। নিজ কর্ম ও গুণে পুরো দেশের জন্য তিনি যাতে অনন্য দৃষ্টান্ত হন।
সভার মধ্যমনি মীর শফিকুল আলম বলেন, ‘আমি সব কিছু উদারতা দিয়ে দেখি। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। বিচারকালে কাউকে অবিচার করিনি। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দিয়েছি। বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয় করেছি। কর্মের খাতিরে কখনো শাসন, আবার কখনো আদর স্নেহ দিয়েছি। সবাইকে ছোট ভেবে স্নেহ দিয়ে কাজ আদায় করেছি। সবসময় কঠিন মনোভাবে থাকিনি।’
বক্তব্যকালে কিছুটা আবেগতাড়িত হয়ে যান বিদায়ী জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমার হাতে যাতে দু’রকম বিচার না হয়, সেজন্য আমি আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বিচার কার্য পরিচালনা করেছি। আইনতঃ বিচারপ্রার্থীরা যতটুকু পাওনা ততটুকু দেয়ার চেষ্টা করেছি। জ্ঞাতসারে অবিচার করিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক আদালতে বার ও বেঞ্চের সমন্বয় না থাকায় বিচারকার্যে ব্যাঘাত ঘটে। আদালতের শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। ২ বছর আগেও কক্সবাজার আদালতে কঠিন সমস্যা ছিল। ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই আমি দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে কোন সমস্যা হয়নি। সমস্যাকে সমাধানের চোখে দেখেছি। আইনজীবীদের সাথে সমন্বয় করেছি। পদোন্নতিযোগ্য কর্মচারীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছি।’
বিদায়ী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম বলেন, ‘যে যার অবস্থান থেকে আরেকজনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হবে। একটু উদার মনে চললে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা থাকা বাঞ্চনীয়।’
সভা শেষে বিদায়ী জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলমকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোঃ বজলুর রশীদ আখন্দ। জেলা জজশীপে কর্মরতদের পক্ষ থেকেও সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দেয়া হয়। এ সময় জজশীপসহ কক্সবাজার আদালতের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরতরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলমের কর্মকালের উপর সচিত্র স্লাইডশো প্রদর্শন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT