১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

এত বিষ জমেছে সমাজের চাকে?

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২১, ২০১৮, ২:০৯ অপরাহ্ণ


এত যে রাজনীতি রাজনীতি করি? সমাজের কী অবস্থা? সেটা দেখিয়ে দিলেন রাজধানী ওয়ারীর এক ফ্ল্যাট মালিক। দেখিয়ে দিলেন সমাজ এক সহিংসতার চাক। মৌচাকে মধু জমে, আমাদের এই ‘সামাজিক’ চাকে জমে হিংসার বিষ। মৌমাছি আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে বিষাক্ত হুল, আর মাছি সমাজের জন্য জমায় মধু। আমরা নিজেরা যাচ্ছি রসাতলে আর একে অন্যকে হুল ফোটাচ্ছি।

আলতাফ হোসেনের ভাতিজার গায়ে হলুদ। একে তো তিনি ‘মালিক’ তায় আবার ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক—মস্ত বড় পদাধিকারী! অতএব মধ্যরাতের পেরিয়েও সারা পাড়াকে জেগে থাকতে হবে। কেননা ভাতিজার জন্য বাড়ির ছাদে বালাখানা বসানো হয়েছে। কনসার্টের এন্তেজাম, মস্ত বড় সাউন্ড বক্স, বিকট তার আওয়াজ আর সেসব হিন্দি গানের রগরগে কথা আর পিলে চমকানো আওয়াজে দুর্বল পিলে তথা হৃদয়ের মানুষের বেমক্কা হার্টফেল হতে পারে। টর্চার সেলে অনেকসময় এরকম বিকট সংগীত নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ সরকারি কর্মচারি নাজমুল হকের কাছে আওয়াজটা তেমন অত্যাচার বলেই মনে হয়েছিল। সেই আওয়াজেই সদ্য হার্ট সার্জারি করে আসা মানুষটা মারা যেতে পারতেন। কিন্তু ছেলে ওপরে গিয়ে অনুরোধ করে আওয়াজ কমানোয় রাতটা পার হয়।

কিন্তু সকালটা পার হতে পারেননি তিনি। হবু বরের চাচা মশায়ের বিরাট অপমান হয়েছে। মস্ত বড় লোক তিনি। মস্ত বড় অর্জন তাঁর এই ফ্ল্যাট মালিকানা। কোথাও কোথাও বাড়ির মালিককে জমিদার বলে। আর ভাড়াটেরা হলেন প্রজা। দেশ থেকে জমিদারি ব্যবস্থা ১৯৫৬ সালে উচ্ছেদ হয়ে গেলেও জমিদারি আচরণের ভাইরাসটা অনেকের মধ্যেই রয়ে গেছে। এই মহামান্য আলতাফ হোসেন, অতএব, নিজেকে জমিদারদের নেতাই ভেবেছেন। ভাড়াটেদের তাঁকে ভয় পাওয়াই উচিত। অথচ কিনা, তাঁর বাড়িতে তাঁর ভাতিজার ভয়ংকর গায়ে হলুদের বাদ্যবাজনা থামাতে বলে? রাতে নিশ্চয় তাঁর ভাল ঘুম হয়নি। তিনি সকালের অপেক্ষায় ছিলেন।

সকালে বাড়ির নিচে ‘অপরাধী’দের ডেকে আনেন। তিনি নিজেই বিচারক, তাঁর ভাতিজা-পুত্র ইত্যাদিরা তাঁর লাঠিয়াল-কোতোয়াল। এবং বাংলা সিনেমার মতোই, পুত্রকে বাঁচাতে বৃদ্ধ পিতা আহাজারি করলেন, থামাতে গেলেন এবং তিনিও মার খেয়ে মরে গেলেন। ব্যস! খেলা শেষ! একটা জীবন শেষ!

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT