১৮ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

‘একদিন সহশিল্পীরা আমাকে ভুলে যাবেন’

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৮, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ


প্রয়াত খ্যাতনামা অভিনেতা ও পরিচালক বুলবুল আহমেদ তনয়া ঐন্দ্রিলা আহমেদ। দশ বছর বিরতি দিয়ে আবার অভিনয় শুরু করেছেন তিনি। প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত কয়েকটি নাটক। এর বাইরে ঐন্দ্রিলা তার বাবাকে নিয়ে নতুন কিছু উপলব্ধির কথা শেয়ার করেছেন। আর তা বড়ই বেদনার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-রকিব হোসেন

মাঝে অভিনয়ে দশ বছরের বিরতি ছিল আপনার। এখন আবার কাজ শুরু করেছেন। কোনো পরিবর্তন লক্ষ করেছেন?
আমার মনে হয় আমরা এখন যান্ত্রিক হয়ে গেছি। আমাদের ফিলিংস কমে গেছে। সবকিছুতেই একটা কমার্শিয়ালভাব এসে গেছে। সবাই কেমন যেন ক্যালকুলেটিভ। আগে যেমন আমরা সবাই নিজেদের একটা পরিবার মনে করতাম, সেই ভাবনাটা এখন আর নেই। আমি কাজে ফেরার পর একটা গ্রুপ গ্রুপ ভাব দেখতে পাচ্ছি। একেকজন একেক গ্রপে। আগে যেমন পহেলা বৈশাখ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সবাই মিলিত হলে নিজেদেরকে একটি পরিবার মনে হতো, এখন সেই জিনিসটার বড় অভাব অনুভব করছি। আমাদের আগের সেই পরিবারে যেন ভাঙন ধরেছে বা বিলুপ্তির পথে সেই পরিবারটি। শুটিং করতে গেলে এখন সবাই কাজ করছে, কিন্তু আত্মিক সম্পর্কের উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না। সবাই যেন আলাদা আলাদা। কাজ শেষে একজন অন্যজনকে ভুলে যাচ্ছে। এটা আমাকে খুব পুড়িয়েছে।

দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে এসে প্রশংসিত হয়েছেন। মাঝে কয়েকটি নাটকের কাজ শেষ করেছেন। তা অনএয়ারে আসছে না কেনো? 
আমি মাঝে ফেইক লাভ, ছোট ছোট আশা ভালোবাসা, আতঙ্ক, জল পুকুরে ডুব ও চিলেকোঠার সংসার শিরোনামের নাটকগুলোর কাজ শেষ করেছি। ঈদুল ফিতরে এগুলো প্রচার হবার কথা থাকলেও বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা থাকায় সে সময় তা প্রচার থেকে বিরত ছিলেন নির্মাতারা। এরপর গেল ঈদুল আজহায়ও তা প্রচার হয়নি। হয়তো সামনে ভালো দিনক্ষণ দেখে নাটকগুলো প্রচার হবে।

এই নাটকগুলোর তিনটিতেই আপনার বিপরীতে রয়েছেন সজল। দশ বছর পর কাজ করতে এসে সজলকে কেমন দেখলেন?
সজল আর আমার বোঝাপড়া বরাবরই ভালো। তিনি খুবই ভালো একজন অভিনেতা। সহশিল্পী হিসেবে তার সাথে কাজ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। সজল ভালো মনের একজন মানুষ। শুটিংয়ের সময় হাসিখুশি ও আরামদায়ক পরিবেশই আমরা কাজ করেছি। সহশিল্পী হিসেবে আমি তার কাছ থেকে দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি।

এখন তো ছোটপর্দার অনেকেই চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। আপনি কোনো প্রস্তাব পাননি?
হ্যাঁ, পেয়েছি তো। একাধিক ছবিতে কাজের অফার এসেছিল আমার কাছে। কিন্তু ছবির গল্প পড়ে আমার ভালো লাগেনি। পাশাপাশি আমাকে যে চরিত্রের জন্য তারা নির্বাচন করতে চেয়েছেন, সেই চরিত্রটিও আমাকে খুব একটা আকর্ষণ করেনি। আমার মনে হয়নি যে, এই চরিত্রটি ছাড়া যাবে না। এটা ছেড়ে দিলে হয়তো আমি ভালো কিছু মিস করলাম। আসলে আমি একজন অভিনেত্রী। অভিনয়ের সুযোগ আছে এমন সব মাধ্যমেই কাজ করতে চাই।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ছিল আপনার বাবার জন্মবার্ষিকী। তাকে নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী রকম?
যারা যারা আমার বাবাকে মনে রেখেছেন, আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন, যাদের কাছে বাবাকে নিয়ে আমাদের কিছু প্রত্যাশা ছিল, তারা আমাদের হতাশ করেছেন। আমার বাবাসহ অনেকেই তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাজের জন্য একটা ফিল্ড তৈরি করে দিয়েছেন। তারা কিন্তু সেটা মনে রাখেনি। অথচ আমাদের পাশের দেশ ভারতে সিনিয়র শিল্পীদের অনেক সম্মান দেওয়া হয়। আমরা তা পারিনি। এ দেশে প্রবীন শিল্পীদের কেউ মনে রাখতে চায় না। সবাই নতুনদের নিয়েই ব্যস্ত থাকে। আমি ছেলেবেলায় দেখতাম, আমাদের বাড়িতে সাংবাদিকসহ সিনেমা ও নাটকের মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। কিন্তু বাবার যখন বয়স হলো কেউ তার খবর নিতো না, শুধু চাষী নজরুল ইসলাম, কেরামত মওলা আঙ্কেল ও বাবার ছেলেবেলার বন্ধুরা ছাড়া। তিনি যাদের গড়ে তুলেছেন, তারাও বাবার কোনো খোঁজখবর রাখেনি। তার অসুস্থাবস্থায় সাংবাদিকরা তার কাছে আসেনি। একদিন একজন সাংবাদিক ফোন করে আমাকে বললেন, তোমার বাবার কিছু হলে আমাকে জানিও। আমি এতে কষ্ট পেয়েছি। আমরা যেন কেমন! একদিন বাবা আমাকে বলেছিলেন, আমার সুখের পাখিরা কোথায় গেল? তিনি তার সুসময়ে পাশে থাকা মানুষদের কথা বলেছিলেন।

বাবাকে দেখে আপনার ভাবনাটা কেমন?
আমি জানি বয়স হলে বাবার মতোই একদিন আমার কাছে আর কাজের অফার আসবে না। একদিন আমার সহশিল্পীরাও আমাকে ভুলে যাবেন। সাংবাদিকরাও আমাকে নিয়ে লিখতে আগ্রহী হবেন না। এটাই হয়তো এ দেশে নিয়ম। আমার সেই মানসিক প্রস্তুতিটা রয়েছে। এজন্য আমি কাজ কম করি। এই দেশ ও মানুষের কাছে আমার প্রত্যাশা কম। ফলে আমার খুব একটা কষ্ট হবে না নিজের সুসময়ের কথা ভেবে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT