১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

উত্তর কোরিয়ার ইতিবাচক সাড়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ ট্রাম্পের

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮, ৭:০৯ অপরাহ্ণ


পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে উত্তর কোরিয়ার ইতিবাচক সাড়ায় সন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একে তিনি সুসংবাদ বলে মন্তব্য করেছেন। গতকাল দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার ওয়াশিংটনে তিনি বলেন, দেশটির এমন পরিবর্তনের কারণেই যুদ্ধাবস্থা দূর হয়ে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কয়েকদিন আগে কিম জং উন আমাকে ইতিবাচক একটি চিঠি লেখেন। এরপরই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন। ক্রমেই দেশটি ইতিবাচক অগ্রগতির দিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সঙ্গে তাদের বন্দি বিনীময়, কোরীয় যুদ্ধে নিহত সেনা সদস্যদের দেহাবশেষ ফেরত দেয়া থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করা- এ সবই ইতিবাচক। এখন তারা অলিম্পিকে অংশ নিতে যাচ্ছে। দেশটির এমন আচরণের পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রচেষ্টায়।

আর ২০২১ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বিষয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই কোরিয়া একমত হওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছে চীনও। বৃহস্পতিবার তিনদিনের পিয়ংইয়ং সফর শেষে সিউল ফিরে যান মুন জে ইন ও তার সফর সঙ্গীরা।

বুধবার পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নৈশভোজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন রকম খাবারের স্বাদ নেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন। নৈশভোজে আরও অংশ নেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের স্ত্রীসহ আয়োজক কিম ও তার স্ত্রী এবং ছোট বোন।

ওইদিন সন্ধ্যায় পিয়ংইয়ংয়ের স্টেডিয়ামে বহু মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শারীরিক কসরত ও কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন কিম ও মুন। এর আগে সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন দুই নেতা। তাদের কণ্ঠে ছিল দুই কোরিয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রত্যাশা।

কিম জং উন বলেন, উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সুসম্পর্কের জন্য এবারের সম্মেলনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শান্তি এবং উন্নতির ধারায় যেতে চাই।

মুন জে ইন বলেন, দুই কোরিয়ার সুন্দর প্রকৃতি, পাহাড়-পর্বত আর নদী নালা আজ পরম শান্তির স্থান। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরমাণু অস্ত্রমুক্ত দেশ গড়তে চাই। আমাদের বন্ধন ৫ হাজার বছরের পুরোনো, কেবল ৭০ বছর ধরে আমরা আলাদা আছি। এখনই সুযোগ আবারও মিলে যাওয়ার।

এদিকে শীর্ষ সম্মেলন নিয়ে দুই কোরিয়ার মানুষের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে এবারের শীর্ষ সম্মেলন।

তারা বলেন, শীর্ষ সম্মেলনে কোরিয়ার দুই নেতার মধ্যে যে আবহ ছিল, সেটাই সবসময় বজায় থাকুক এমনটাই চাই।

উত্তর কোরিয়ার প্রফেসর ওয়াং মো জিন বলেন, কিম জং উন ও মুন জে ইনের বৈঠকে যৌথ সামরিক কমিশন গঠন করা, দুই কোরিয়ার সম্পর্কের উন্নয়নে মৈত্রী কার্যালয় খোলাসহ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে তার সবই কোরীয় উপদ্বীপকে শান্তির পথে নিয়ে যাবে। হয়তো আলোচনায় পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কতদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে তা নিয়েও তাদের কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি বলবো, মুনের সঙ্গে আগের দুইবারের বৈঠকের চেয়ে এবারের বৈঠক অনেক বেশি সফল।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT