১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

ইবির সাথে রেল লাইন সংযোগে বছরে ৯ কোটি টাকা পরিবহন ব্যয় কমবে

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ


শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চয়তার লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীনতাত্তোর দেশে প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩৮তম বছরে পর্দাপণ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩ শতাংশ আবাসন সুবিধা রয়েছে। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায়  বিশ্ববিদ্যালয়টির মাত্র ৩৩টি বিভাগ রয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের দূরদর্শিতায় ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে একসাথে ৮টি অত্যাধুনিক বিভাগে চালু হলেও আবাসন ও পরিবহন সমস্যায় হোঁচট খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিংহভাগ টাকা খরচ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন খাতে। বছর শেষে এই খাতের ব্যয়ের হিসেব দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা। নাজুক এই অবস্থার অবসায়নে রেল লাইন যোগাযোগই একমাত্র সমাধান বলে মনে করেছেন বিশিষ্ট জনেরা।
বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের মাত্র ৮ টি আবাসিক হল রয়েছে। আর বাকী ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ জেলায় অবস্থান করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ রুটে ৭৫ টি গাড়ী আনা নেয়ার জন্য ব্যবহত হয়। এর মধ্যে ৩৬ টি গাড়ীই ভাড়াকৃত। বিপুল পরিমান পরিবহন যোগান দেওয়া সত্ত্বেও বাদুড় ঝোলা ঝুলিয়ে যাতায়াত করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কুষ্টিয়া শহর ২৪ কিলোমিটার এবং ঝিনাইদহ শহর হতে ২২ কিলোমিটার দূরবর্তী হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হন। বিশ্ববিদালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনে বর্তমান প্রশাসনের দুরদর্শিতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সুপারিশে বহুল প্রত্যাশিত অর্গানোগ্রাম শিক্ষামন্ত্রালয় কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। গত ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদী এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯০ জন শিক্ষক এবং ২০৮৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ৪ টি ১০ তলা বিশিষ্ট, ২৫,১১১ জন শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ৪ টি আবাসিক হলের প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এতে আবাসিক সংকট অনেকখানিই কমে যাবে। এর পরেও দীর্ঘদিনের এই উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্পূর্ণ রুপে সম্ভবপর নয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা উত্তরণে পরিবেশ বান্ধব সাশ্রয়ী নিরাপদ রেল পরিবহন  কুষ্টিয়া রেল লিংক থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনেও রাষ্ট্রপতির কাছে রেললাইনের ব্যাপারে প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। নতুন এই রেল লাইন নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাবিত উন্লয়ন হবে অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ দূর্ঘটনা  থেকে নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ পাবে।
আইন ও শরীয়াহ অনুষদের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী মোছা: খাদিজা খাতুন বলেন,‘এমনিতেই শহর থেকে ক্যাম্পাসে আসতে অনেক সময় নষ্ট হয়। এরপরে আবার নতুন করে ৮ টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা যোগ হওয়ায় পরেও নতুন কোন বাসের বরাদ্ধ না থাকায় বস্তাবন্দী সবজির মত আসতে হয়। রেল লাইন যোগাযোগ হলেতো আমাদের জন্য অনেক সুবিধাই হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় পরিবহন নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ধরনের অর্থ পরিবহন খাতে ব্যয় হয়। যে ব্যয়ের পরিমান বাত্সরিক প্রায় ৯ কোটি টাকা। এই টাকা টাকা বাচাঁতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যেত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন,‘অবস্থানগত কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুলাংশে পরিবহন নির্ভর হতে হয়েছে। এদিকে অর্পাপ্ত আবাসন ও ভাড়করা গাড়ীর ওপর নির্ভরতার কারণে কাঙ্খিত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা করা যাচ্ছেনা। কুষ্টিয়া এবং ঝিনাইদহের মধ্যে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেন ব্যবস্থার আদলে একটি রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতো। গত ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ সমাবর্তনে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। এই দাবি আাামার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ১৮ হাজার মানুষের প্রাণের দাবি।’

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT