১৫ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

আল কোরআনের মর্যাদা

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ


মুফতি এহসানুল হক মোজাদ্দেদী:

আল কোরআনের আরেকটি মর্যাদা হলো, এটি একটি চ্যালেঞ্জময় গ্রন্থ। কোরআন নিয়ে মহান আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে বলেন, ‘বলুন, যদি মানব ও জিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনার জন্য জড়ো হয় এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারীও হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৮৮)

পৃথিবীতে একমাত্র সন্দেহমুক্ত আসমানি কিতাব হল পবিত্র ‘আল কোরআন’। পবিত্র এই কোরআন প্রিয় নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর নাজিল করা হয়েছে রমজান মাসে। কোরআনুল কারিমে এরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে যা মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)।

কোরআনুল কারিম বোঝার জন্য বুদ্ধিমত্তার চেয়ে ‘কলব’ এর পরিশুদ্ধতার প্রয়োজন অনেক বেশি। কেননা, কোরআন নাজিল করা হয়েছে কলব এর ওপর। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এ কোরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাজিলকৃত। বিশ্বস্ত ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এটা নিয়ে অবতরণ করেছেন তোমার নূরানি কলবে (হৃদয়ে) যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’ (সূরা আশশুআরা : ১৯২)।
আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর অবতীর্ণ এ কিতাব কোরআনুল কারিম, যা তাঁর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে নাজিল হয়েছে। এ কিতাবটির নাম, নাজিলের ভাষা, বিষয়বস্তুÑ সব কিছুই অভিনব ও মোজেজাপূর্ণ। কোরআন শব্দটি কারউন শব্দ থেকে নিষ্পণœ হয়েছে। এর ধাতুগত অর্থ দুটি।
১. জমা করা। এর তাৎপর্য হলো এ কিতাবের মধ্যে অতীতের সব আসমানি কিতাবের মূল শিক্ষা একত্রিত হয়েছে। এর মধ্যেই পৃথিবীর প্রলয় দিন অবধি মানব জাতির প্রয়োজনীয় শিক্ষা এবং হেদায়েত সন্নিবেশিত হয়েছে। (উলুমুল কোরআন)।
২. বারবার পাঠ করা। এ কিতাবটি কোটি কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অধ্যয়ন করছে। এত অধিক পঠিত কিতাব দুনিয়ায় আর একটিও নেই। (আল ইতকান)।
পবিত্র কোরআন হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কোরআন শেখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।’ (বোখারি)। রাসুল (সা.) বলেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর বাণী। আর সর্বশ্রেষ্ঠ পথ হলো মুহাম্মদ (সা.) এর দেখানো নূরানি পথ। (মুসনাদে আহমাদ)।
কোরআনের প্রতিটি হরফ পাঠ করলে দশটি নেকি লাভ করা যায়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করল, এতে সে দশটি নেকির অধিকারী। তিনি আরও বলেন, আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ।’ (তিরমিজি শরিফ)।
আল কোরআন তেলাওয়াতের এত ফজিলত হওয়ার কারণে অতীতের উম্মতে মুহাম্মদি বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতেন। হজরত ওসমান (রা.) তিন দিনে এক খতম কোরআন পড়তেন। ইমাম বোখারি (রহ.)ও তিন দিনে এক খতম কোরআন পড়তেন বলে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন। আমাদের মাজহাবের ইমাম হজরত আবু হানিফা (রহ.) প্রতি রাতে এক খতম কোরআন পড়তেন বলে বর্ণিত আছে।
পবিত্র কোরআন পাঠকারীর মা-বাবাকে কেয়ামতের ময়দানে হাশরে নূরের টুপি পরানো হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন শরিফ পড়ে এবং এর ওপর আমল করে, তার মা-বাবাকে কেয়ামতের দিন এমন একটি নূরের টুপি পরানো হবে, যার জ্যোতি দুনিয়ার সূর্যের জ্যোতি অপেক্ষা অধিক হবে।’ (আবু দাউদ)। আরেকটি হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, কোরআন মানুষকে আলোকিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার হৃদয়ে কোরআনের কোনো শিক্ষা নেই, তা বিরান ঘর সমতুল্য।’ (তিরমিজি)। আমাদের প্রতেক্যের অবশ্যই কর্তব্য নিয়মিত কোরআন পড়া, আল কোরআনের চর্চা করা। নয়তো আমাদের অন্তর বিরান ঘরের মতো হয়ে যাবে।
কোরআন সৃষ্টি জগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ (সূরা যুমার : ১)। কোরআন পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যয়নকারী। ‘আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যথাযথভাবে, এর আগের কিতাবের সত্যয়নকারী ও এর ওপর তদারককারীরূপে।’ (সূরা মায়েদা : ৪৮)।
পবিত্র কোরআন লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘বরং এটা মহান কোরআন, লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।’ (সূরা বুরুজ : ২১-২২)। অপবিত্র অবস্থায় কোরআন স্পর্শ করা নিষেধ। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না, এটা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।’ (সূরা ওয়াকিয়া : ৭৭-৮০)।
আল কোরআনের আরেকটি মর্যাদা হলো, এটি একটি চ্যালেঞ্জময় গ্রন্থ। কোরআন নিয়ে মহান আল্লাহ চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে বলেন, ‘বলুন, যদি মানব ও জিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনার জন্য জড়ো হয় এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারীও হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৮৮)।
কোরআনের হেফাজতকারী স্বয়ং আল্লাহ। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘এই জিকর (কোরআন) আমিই নাজিল করেছি, আর আমি নিজেই এর হেফাজতকারী।’ (সূরা হিজর : ০৯)।
কোরআনুল কারিম বিশ্ব মানবতার জন্য এক অফুরন্ত নিয়ামাত। মহান আল্লাহ তায়ালার বড়ই মেহেরবানি যে, তিনি আমাদের ওপর কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘বড়ই মেহেরবান তিনি (আল্লাহ) যিনি মাহবুবকে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন।’ (সূরা আর-রহমান : ১-২)।
এই সুমহান মর্যাদাম-িত গ্রন্থের পূর্ণ হক আদায় করে আমরা বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করব এবং এর অর্থ ও তাফসির বুঝে জীবনযাপন করব এবং আম্বিয়ায়ে কেরাম ও আউলিয়াদের পথ ধরে জান্নাতের পথে এগিয়ে যাব। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

লেখক : খতিব, মনিপুর বাইতুর রওশন (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ
মিরপুর, ঢাকা

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT