১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

আমাদের জীবন হোক ঈমানের জীবন

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২১, ২০১৮, ৯:০১ পূর্বাহ্ণ


মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ!
দ্বীনের কথা শুনব, সে অনুযায়ী আমল করব। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর বাণী শোনে এবং আমল করে আল্লাহর কাছে তারাই জ্ঞানী হিসেবে গণ্য।’ মেরে ভাই! প্রতিটি মানুষ হেদায়েতের প্রতি মুহতাজ। এজন্য আল্লাহ তায়ালা হেদায়েতের জন্য দোয়া করাও আবশ্যক করে দিয়েছেন। নামাজে আমরা পড়ি ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম’। আমাদের সিরাতুল মুস্তাকিম দান করুন। ওই পথে চালাও যে পথে তোমার নেয়ামতপ্রাপ্তরা চলেছেন। সে পথে নয়, যে পথে তোমার গজবপ্রাপ্তরা চলেছে। গজবপ্রাপ্তরা কী বলে? তারা বলে পরকালে কী হবে-না-হবে, ওসব বাজে কথা। মরণের চিন্তা করে লাভ নেই। বরং দুনিয়ায় খাইব, লইব, পরবÑ এটাই জীবন। এজন্য ভাই! সবসময় হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে হবে আমি যাতে ভ্রান্ত হয়ে না যাই। হেদায়েত পাওয়ার পরও আমি যেন পথহারা না হই।
মুহতারাম ভাই ও দোস্ত!
মানুষের কাছে তার জীবন সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়। এজন্য সে জীবন বাঁচাতে চেষ্টায় থাকে। তাই কেউ তার মাথায় আঘাত করতে চাইলে সে হাত দিয়ে ঠেকায়। কেননা মাথা যদি চুরমার হয়ে যায়, তাহলে তো সে ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য সে হাত দ্বারা বা অন্য কোনো কিছু দ্বারা হলেও মাথাকে হেফাজত করার চেষ্টা করে। এ রকমভাবে মানুষের কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান হচ্ছে তার জান। জান বাঁচানোর জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করে। ইবরাহিম (আ.) বললেন, আল্লাহই তো আমাকে হুকুম দিয়েছেন তোমাকে জবাই করার জন্য। ইসমাইল (আ.) এ কথা শুনে নারাজ হলেন না। চিৎকার করে উঠলেন না; বরং বললেন, ও আব্বাজান! যদি আল্লাহই আমাদের জবাই করার ব্যাপারে হুকুম দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি আমার ওপর এ হুকুম চালু করুন। আমাকে জবাই করুন। আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।
মুহতারাম বুজুর্গ ও দোস্ত!
আল্লাহকে খুশি করার জন্য, জান দেওয়ার জন্য, মাল দেওয়ার জন্য, জিন্দেগির সবকিছু দেওয়ার জন্য তৈরি ছিলেন তারা। এজন্য আমার-আপনাকেও আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা আল্লাহ যদি নারাজ হয়ে যান, তাহলে আমার-আপনার বাঁচবার জন্য কোনো রাস্তা নেই। ধ্বংসের ভেতরে আমি-আপনি পড়ে যাব। হজরত ইবরাহিম (আ.) বিবি-বাচ্চাদের মরুভূমিতে রেখে গেলেন। তারা রাজি হয়ে গেলেন। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছেন না বাঁচিয়েছেন? আল্লাহ তাদের হেফাজত করেছেন। এভাবে যারা আল্লাহর প্রতি রাজি হয়ে যায়, আল্লাহও তাদের প্রতি রাজি হয়ে যান।
মুহতারাম ভাই ও বুজুর্গ!
দুনিয়ার কোনো সুখের দাম নেই। দুঃখেরও দাম নেই। বরং আখেরাতের সুখই আসল সুখ। আখেরাতের দুঃখই আসল দুঃখ। আখেরাতের সে অনন্তকালের দুঃখ থেকে বাঁচতে হলে এবং আখেরাতের অনন্তকালের সুখ পেতে হলে আমাদের সর্বপ্রথম ঈমান বানাতে হবে। আল্লাহ সবকিছুর করনেওলা। তিনি সবকিছু করেন, সবকিছুর ওপর তিনি কুদরত রাখেন। সবকিছু দেখেন, সবকিছু শোনেন, সবকিছু প্রতিপালন করেন। এসব কথার বিশ্বাস নিজের দিলে পয়দা করতে হবে। তিনি সেই আল্লাহ, যিনি আমাদের অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। মায়ের পেটের ভেতরে নাভির মাধ্যমে আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। দুনিয়ায় আসার আগেই আল্লাহ মায়ের স্তনে দুধের সরবরাহ করেছেন। আবার দুনিয়ায় আসার পরে মায়ের স্তন থেকে আমাদের দুধ পান করিয়েছেন। মুহতারাম দোস্ত! মায়ের স্তনের দুধ দুনিয়ার কোনো কারখানা বানাতে পারে না। কে বানাল এই দুধ? বাচ্চা যখন দুনিয়ায় আসে, তাকে পাকপবিত্র করে তার ঠোঁট দুধের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। আর সে ওই দুধ পান করে। বাচ্চাকে এসব কে শেখাল?
মুহতারাম দোস্ত!
একটা বাচ্চার জন্ম হলো। দেখা যায়, ওই ঘরের পুরো পরিবার একটা ছোট্ট বাচ্চার জন্য দাসে পরিণত হয়ে যায়। বাচ্চা কাঁদুক তা কেউ পছন্দ করে না। তার কোনো অসুবিধা হোক, তা কেউ চায় না। সবাই ওই বাচ্চার ভালো চায়। পরিবারে এমন কেউ নেই যে, তার সঙ্গে দুশমনি রাখবে। বাচ্চার প্রতি মানুষের দিলে কে এই মহব্বত সৃষ্টি করে দিলেন? তিনি সেই আল্লাহই এই মহব্বত সৃষ্টি করে দিলেন। অথচ এই মা-বাবা দেখছে, তার অন্যান্য সন্তান বড় হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। তাদের কথা শুনছে না। অবাধ্য হয়ে গেছে। এখন এ বাচ্চাকে লালন-পালন করছে। মনে বাচ্চার বড় হয়ে অবাধ্য হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এখন বাচ্চাকে সুন্দর, যত্মের সঙ্গে লালন-পালন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এখানে বাচ্চার লালনে কোনো স্বার্থ খোঁজে না আর, বরং নিঃস্বার্থভাবে বাচ্চার লালনে কোনা অবহেলা করে না।
মুহতারাম দোস্ত ও বুজুর্গ!
সব নবী দুনিয়ায় এসে একই বাক্যে একই কথার প্রচার করে গেছেন। ‘হে মানবসকল! কুলু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তুফলিহুন।’ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সফলতার চাবিকাঠি। তাই তারা এ কথার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। ছড়িয়ে গেছেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ এজন্য ভাই, আমাদের জিন্দেগি বানাতে হবে ঈমানর জিন্দেগি। আমাদের জীবন হোক ঈমানের জীবন। যদি কেউ সত্যিকারভাবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অধিকারী হয়ে যায়, তাহলে পুরো জীবন ইবাদতময় হয়ে যাবে। তার খাওয়া, ঘুম সবকিছু ইবাদত বলে গণ্য হবে।
মুহতারাম ভাই ও দোস্ত!
এজন্য আমাদের দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ করতে হবে। আমরা বেশি বেশি দাওয়াত দেব। আল্লাহর হুকুম পুরা করব। আল্লাহর রাসুলের সুন্নত পরিপূর্ণভাবে মেনে চলব। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার নবীর অনুসরণ করো।’ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের রাসুল যা দেন, তা গ্রহণ করো।’ এজন্য ভাই, রাসুলের সুন্নতেই কামিয়াবি। নিজের জীবনকে সুন্নতের রঙে রঙিন করব।
হঅনুলিখন : হাসান আল মাহমুদ

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT