১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

আবারও ট্রাম্পের ডিগবাজি

প্রকাশিতঃ জুলাই ২১, ২০১৮, ৯:১৫ অপরাহ্ণ


আমেরিকায় বলা হয়, বিপদে পড়লে নিজের কথা নিজেই হজম করতে হয়। পরপর তিন দিন ঠিক সেই কাজটিই করতে হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তাঁর সর্বশেষ ডিগবাজি ছিল বৃহস্পতিবার, রুশ ও মার্কিন বিচার বিভাগের মধ্যে সহযোগিতার এক প্রস্তাব নিয়ে। প্রথমে সে প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও প্রবল সমালোচনা ও সিনেটের প্রতিরোধের মুখে এদিন সে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প।

হেলসিঙ্কিতে পুতিন প্রস্তাব করেছিলেন, যে ১২ জন রুশ গোয়েন্দাকে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে, তবে তার পরিবর্তে রুশবিরোধী কার্যকলাপের জন্য অভিযুক্ত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তাকেও রুশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘খুবই চমৎকার’ বলে স্বাগত জানিয়েছিলেন। পরে ফক্স টিভির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন রয়েছে। এ নিয়ে ট্রাম্প উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে ট্রাম্পের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স জানিয়েছিলেন।

হেলসিঙ্কিতে পুতিন যেসব মার্কিন নাগরিককে মস্কোতে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাঁদের অন্যতম হলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফাউল। তাঁর ব্যাপারে পুতিনের ক্রোধের কারণ, ওবামা আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত অতি ধনী রুশ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি আইন পাসের ব্যাপারে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

মার্কিন কূটনীতিকদের রুশ গোয়েন্দা দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার মতো প্রস্তাবে ট্রাম্প রাজি হতে পারেন, তা মার্কিন মহলে একাধারে বিস্ময় ও ক্রোধের জন্ম দেয়। পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে প্রস্তাবটিকে ‘অবাস্তব’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একইভাবে প্রস্তাবটি বাতিল করে দেন। শুধু ডেমোক্র্যাট নয়, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের ভেতরেও এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সিনেটে এই দুই দলের নেতারা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে একটি প্রস্তাব গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন, যা গত বৃহস্পতিবার ৯৮-০ ভোটে গৃহীত হয়।

সিনেটে এই প্রস্তাব গ্রহণের ঠিক আগে এক ঘোষণায় হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রুশ প্রস্তাবটি সমর্থন করেন না। সারাহ স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রস্তাবটি আন্তরিকতার সঙ্গেই করেছিলেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে একমত নন।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক টুইটে মার্কিন পেশাদার কূটনীতিকদের রুশ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টি হোয়াইট হাউসের বিবেচনায় ছিল—তাতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এমন একটি প্রস্তাব বাতিল করতে আধা মিনিটের বেশি আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন পড়ে না।

আধা মিনিট নয়, প্রায় তিন দিন লাগল পুতিনের প্রস্তাবটি বাতিল করতে, সে কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন ভাষ্যকার মন্তব্য করেছেন, কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সে প্রশ্নে ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিপরিষদ অথবা উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন বোধ করেন না। হেলসিঙ্কিতে ট্রাম্প কী কী বিষয়ে আলোচনা করেছেন অথবা রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোন কোন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাছে কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। একজন ভাষ্যকার বলেছেন, এখন ট্রাম্প নিজেই তাঁর চিফ অব স্টাফ ও পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন।

হোয়াইট হাউস ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সংযোগহীনতা কতটা তীব্র, বৃহস্পতিবারই তার আরেক প্রমাণ মেলে। এদিন এক টুইটে সারাহ স্যান্ডার্স জানান, হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এ বছর হেমন্তে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা সিআইএ বা জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধানেরা আগে থেকে জানতেন না।

পুতিনকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ ট্রাম্পের

রয়টার্স জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন একটি বৈঠক আয়োজন করা নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রে রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স গতকাল শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে।

এর আগের দিন হোয়াইট হাউস বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি শরতে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ওয়াশিংটন সফর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত সপ্তাহে হেলসিঙ্কিতে ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনার ঝড় উড়িয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউসের তরফে এই প্রস্তাবের কথা জানানো হলো।

প্লেবয় মডেলকে অর্থ দেওয়ার গোপন টেপ

রয়টার্স জানায়, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প এক প্লেবয় মডেলকে অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন তাঁর তখনকার আইনজীবী মাইকেল কোহেনের সঙ্গে। ওই মডেলের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাম্প আর কোহেনের সেই কথোপকথনের গোপন টেপ এসেছে এফবিআইয়ের হাতে।

নিউইয়র্ক টাইমস গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইনজীবী ও অন্যান্য সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, চলতি বছরের শুরুর দিকে কোহেনের কার্যালয়ে তল্লাশির সময় ওই টেপ হাতে পায় এফবিআই।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT