২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

আজকের তারাবি

প্রকাশিতঃ মে ২৬, ২০১৮, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ


আজ দশম তারাবিতে সূরা ইউসুফের ৫৩-১১১ আয়াত, সূরা রাদ ও সূরা ইবরাহিম পড়া হবে। আজ পড়া হবে ১৩তম পারা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরা হলোÑ

১২. সূরা ইউসুফ (৫৩-১১১)
সংক্ষিপ্তাকারে নবী ইউসুফ (আ.) এর কাহিনি আমরা গতকাল পড়েছিলাম। কাহিনিটির যে অংশ আজ শুনবÑ মিশরের বাদশা ইউসুফ (আ.) এর কাছে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা শুনে তাকে জেল থেকে মুক্ত করে দিলেন। মুক্তির আগে ইউসুফ (আ.) সবার সামনে নিজের নির্দোষিতার প্রমাণ করতে চাইলেন। আজিজে মিশরের স্ত্রী নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। ইউসুফ (আ.) নির্দোষÑ এ কথাও সে অকপটে বলল। জেল থেকে বেরিয়ে ইউসুফ (আ.) মিশরের অর্থ বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সে সময়ে মিশর ও তার আশপাশের এলাকাগুলোয় দুর্ভিক্ষের কারণে ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা বিশেষ দান সংগ্রহের জন্য মিশরে আসে। এক-দুই সাক্ষাতের পর ইউসুফ (আ.) ভাইদের জানিয়ে দেন, আমি তোমাদের ভাই ইউসুফ। এরপর ইউসুফ (আ.) এর বাবা-মাও মিশর চলে আসেন এবং এখানেই বসতি স্থাপন করেন। নবী ইউসুফের শৈশবে দেখা স্বপ্ন সত্যে পরিণত হয়।
সূরা ইউসুফ শেষ হচ্ছে এই বার্তা দিয়েÑ ‘এই সব মহামনীষীর ঘটনায় রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য বহু শিক্ষা ও নসিহত।’ (১১১)।
১৩. সূরা রাদ, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৪৩, রুকু ৬
এ সূরায় তাওহিদ, রিসালাত ও কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরার প্রথম আয়াতে কোরআনের সত্যতার আলোচনা রয়েছে। পরবর্তী আয়াতে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব ও একত্ববাদের দলিল প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। আসমান-জমিন, চাঁদ-সূর্য, রাত-দিন, পাহাড়পর্বত ও নদীনালা, লতাগুল্ম, বৈচিত্র্যময় স্বাদ ও রঙের বিভিন্ন ফলমূলের স্রষ্টা তো একমাত্র তিনিই। জীবন-মরণ এবং উপকার ও ক্ষতিসাধন একমাত্র তাঁরই হাতে। এরপর কেয়ামতের পুনরুত্থান ও প্রতিদানের আলোচনা করা হয়েছে। ফেরেশতাদের দিয়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে হেফাজত করেন, সুরক্ষিত রাখেন। এ প্রসঙ্গের বর্ণনার পর একটি মূলনীতি বলা হয়েছে, তা হলো আল্লাহ তায়ালা কোনো জাতির অবস্থা ততক্ষণ বদলান না, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। (১১)। মুসলিম জাতি সম্মান পেতে চাইলে, লাঞ্ছনার পথ পরিহার করে মর্যাদার পথ অবলম্বন করতে হবে। বাতিলের উপমা দেওয়া হয়েছে ঢেউয়ের ওই বুদবুদের সঙ্গে, যা বাহ্যত সব জিনিসের ওপর ছেয়ে থাকে। কিন্তু অবশেষে শুকিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর হক ও সত্যপন্থিদের ওই সোনা চাঁদির সঙ্গে উপমা দেওয়া হয়েছে, যা ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে যায় না, বরং জমিনের মাঝেই থেকে যায়। তারপর আগুনে উত্তপ্ত করলে তা একেবারে খাঁটি সোনায় পরিণত হয় এবং খাদ ও ময়লা তা থেকে পৃথক হয়ে যায়। (১৭)।
মুত্তাকি এবং সত্যিকার বুদ্ধিমানদের আটটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছেÑ সেগুলো হলো প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, আপন প্রতিপালকের ভয়, মন্দ হিসাবের ব্যাপারে শঙ্কা, ধৈর্যধারণ, নামাজ কায়েম, প্রকাশ্যে এবং গোপনে দান, মন্দের জবাবে ভালো ও উত্তম চরিত্র প্রদর্শন করা। (২০-২৪)। নবীরা মানুষই, শুধু পার্থক্য হলো তাদের কাছে ওহি আসেÑ এ বিষয়ে আলোকপাতের (৩৮) পর নবী মুহাম্মদ (সা.) এর নবুয়তের সাক্ষ্য দিয়ে সূরাটির সমাপ্তি ঘটেছে। (৪৩)।
১৪. সূরা ইবরাহিম, মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৫২, রুকু ৭
সূরার সূচনাপর্বে কোরআনুল কারিমের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। আর তা হলো মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে বের করে আনা। সূরাটিতে তাওহিদ, রিসালাত ও আখেরাতÑ মৌলিক এ তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
কাফেরদের নিন্দার পর (২, ৩ ও ২৩) বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নবীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে এর কিছু নমুনা তুলে ধরা হয়েছে। অস্বীকারকারী গোষ্ঠী সাধারণত চার ধরনের সন্দেহের কথা বলত এবং বর্তমানেও বলে। সন্দেহগুলোর উল্লেখপূর্বক জবাব দেওয়া হয়েছেÑ ‘আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সন্দেহ’, অথচ একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায়, রাব্বুল আলামিনের অস্তিত্বের অসংখ্য প্রমাণ। ‘রাসুল মানুষ হবেন কেন?’ মানুষের জন্য মানুষ রাসুল পাঠানোই তো বেশি যৌক্তিক। ‘বাপ-দাদাদের ধর্ম ছেড়ে নতুন ধর্ম কেন গ্রহণ করব?’ কেউ যদি ভুলপথে থাকে তবু কি তাকে অনুসরণ করা হবে? ‘মোজেজার দাবি করা মাত্রই সেগুলো নবীরা কেন প্রদর্শন করেন না?’ মোজেজা দেখানো নবীদের ইচ্ছাধীন নয়, মোজেজা তো আল্লাহ তায়ালার হাতে। (৯-১২)। মানুষের কাজ হলো সন্দেহের পথ পরিহার করে মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞ হয়ে থাকা। কেননা আল্লাহ কৃতজ্ঞদের তার নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন, আর অকৃতজ্ঞদের জন্য রয়েছে তার কঠিন শাস্তি। (৭)।
সূরার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও শেষ রুকুতে কেয়ামতের দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছে এবং জাহান্নামের ভীষণ ভয়ংকর আজাবের আলোচনা করা হয়েছে। কেয়ামতের ময়দানে নিজ অনুসারীদের থেকে শয়তানের পলায়ন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে এবং হক-বাতিলের চমৎকার একটি উপমা পেশ করা হয়েছে।
এ সূরায় বিশেষভাবে ইবরাহিম (আ.) এর ওইসব দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো তিনি করেছিলেন বায়তুল্লাহ বিনির্মাণের পরÑ মক্কাবাসী, নিজের সন্তানসন্ততি ও পরবর্তী বংশধর এবং মানবতার জন্য। দোয়ায় তিনি নিরাপত্তা, রিজিকের ব্যবস্থা, মক্কার প্রতি সবার অন্তরের টান, সালাত কায়েম করা এবং মাগফিরাতের দরখাস্ত করেছিলেন। (৩৫-৪১)।
সূরার সূচনাপর্বের মতো শেষেও পবিত্র কোরআনের আলোচনা করা হয়েছে। (৫২)।

রাশেদুর রহমান

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT