১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

আজকের তারাবি

প্রকাশিতঃ মে ২০, ২০১৮, ৪:০২ পূর্বাহ্ণ


আজ চতুর্থ তারাবিতে সূরা নিসার ১২তম রুকু থেকে ২৪তম রুকু, ৮৮ থেকে ১৪৬ নম্বর আয়াত অর্থাৎ সূরার শেষ পর্যন্ত পড়া হবে। তার সঙ্গে সূরা মায়িদার পথম রুকু থেকে দশম রুকুর অর্ধেক, ১ থেকে ৮২ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে পঞ্চম পারার দ্বিতীয়ার্ধ এবং পুরো ষষ্ঠ পারা। আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের সারমর্ম তুলে ধরা হলো।
দ্বাদশ রুকুতে মুসলমানকে মোনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআন মোনাফেকদের গোপন ষড়যন্ত্র ও হীন চক্রান্তের কথা ফাঁস করে দিয়ে তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা শুনিয়ে দিয়েছে।
ত্রয়োদশ রুকুতে ইচ্ছাকৃত কোনো মোমিনকে হত্যা করার শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি সম্পর্কে আলোচনা করার পর দ্বিতীয়বার জিহাদের গুরুত্ব এবং মুজাহিদদের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। বারবার জিহাদের প্রসঙ্গ আসছে, এর কারণ কী? এর কারণ হলো, জিহাদ মুসলিম জাতির সম্মান ও সৌভাগ্যের সোপান। যদি উম্মত জিহাদ-বিমুখ হয়ে যায় তাহলে লাঞ্ছনা ও অপদস্থতা থেকে কেউ তাদের উদ্ধার করতে পারবে না। জিহাদের সঙ্গে সঙ্গে হিজরতের আলোচনা এসেছে। কেননা হিজরতও জিহাদের অন্যতম এক প্রকার।
চতুর্দশ রুকুতে যারা আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগছে এবং জিহাদে ও হিজরতে অংশগ্রহণ করছে না তাদের প্রতি সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। তবে যারা দুর্বল, যাদের সামনে কোনো পথ খোলা নেই তাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চদশ রুকুতে সফর অবস্থায় নামাজ ও যুদ্ধের ময়দানের নামাজ আদায়ের বিধান আলোচিত হয়েছে। সময়মতো নামাজ আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ষোড়শ রুকুতে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অষ্টাদশ রুকুতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালার কাছে ঘোরতর অপরাধ হলো কুফর ও শিরক। এ অবস্থা ওপর যার মৃত্যু হবে তার ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই।
ঊনবিংশতম রুকুতে দ্বিতীয়বার নারীদের আলোচনা এসেছে। এখানেও নারীদের প্রতি জুলুম এবং তাদের অধিকার হরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, যদি স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিবাদ দেখা দেয়, তাহলে পারস্পরিক সমঝোতা করে নেওয়া উচিত। আর সমঝোতার উত্তম পন্থা হলো ‘সুলাহ’ বা সন্ধি।
একবিংশ রুকু অর্থাৎ পঞ্চম পারার শেষ রুকুতে ফের মোনাফেকদের ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং তাদের কঠিন শাস্তির ধমক শোনানো হয়েছে।
পরবর্তী আয়াতগুলোতে ইহুদিদের অপরাধের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। মূলত কাফের ও মোনাফেক কুফরি ও ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে ছিল একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী। ইহুদিদের জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে একটা হলো, তারা ঈসা (আ.) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাঁকে হেফাজত করেছেন এবং সম্মানের সঙ্গে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। সূরা নিসার শেষাংশে সেই একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা প্রথমাংশে করা হয়েছিল। অর্থাৎ নারীদের অধিকার এবং তাদের মিরাস প্রদানে যতœবান হতে হবে।
সূরা মায়িদা : সূরাটি হিজরতের পর মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সূরার আয়াত সংখ্যা একশত বিশ। সূরাটিতে দস্তরখান সম্পর্কিত একটি ঘটনা থাকায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘মায়িদাহ’ বা দস্তরখান।
সূরা মায়িদার শুরুতে মোমিনদের প্রত্যেক জায়েজ অঙ্গীকার ও চুক্তি পূর্ণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। জাহেলি যুগে যা কিছু অবাধে ভক্ষণ করা হতো ইসলাম সেগুলোর অনেক কিছুকে অখাদ্য বলে চিহ্নিত করেছে এবং তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সূরার তৃতীয় রুকুতে ইহুদিদের হঠকারিতা, অবাধ্যতা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ফেতনা-ফ্যাসাদের বিবরণ এসেছে। তাদের এসব দুশ্চরিত্র বর্ণনার দ্বারা সতর্ক করা হচ্ছে যে, তোমরা এগুলো থেকে বেঁচে থাকো।
চতুর্থ রুকুতে বলা হয়েছে, ইহুদিদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুসা (আ.) তাদের পবিত্র ভূমিতে (ফিলিস্তিনে) প্রবেশের নির্দেশ দেন। কিন্তু উত্তরে তারা মূসা (আ.) এর সঙ্গে তামাশা শুরু করে দেয়।
পঞ্চম ও ষষ্ঠ রুকুতে বলা হয়েছে, ইহুদিদের পাশাপাশি খ্রিষ্টানদের ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার বর্ণনা দেওয়ার পর বলা হয়েছে যে, তাদের তাওরাত এবং ইঞ্জিল দান করা হয়েছিল। কিন্তু তারা কিতাবের ফয়সালা মানেনি, কিতাবের নির্দেশনা অনুযায়ী চলেনি।
ষষ্ঠ পারার সর্বশেষ রুকুতে ইহুদি জাতি অভিশপ্ত হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। তা হলো ইহুদিরা আল্লাহ তায়ালার অবাধ্যতা করেছিল এবং সীমালঙ্ঘন করেছিল আর তারা পরস্পরকে সেসব গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ করত না, যা তারা করত।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT