১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শীতকাল

অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কারটা একটি রাতের বিষয় মাত্র

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩০, ২০১৮, ২:৪৬ অপরাহ্ণ


ডেস্ক নিউজঃ এই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে যে ক’জন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে সমালোচকদের দৃষ্টিতে অন্যতম ঋত্বিক চক্রবর্তী। থিয়েটার থেকে উঠে আসা ঋত্বিক এখন ক্যামেরার সামনে দারুণ ব্যস্ত। ইতোমধ্যে তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের জয়া আহসান, জ্যোতিকা জ্যোতির সাথে কাজ করেছেন, এখন কাজ করছেন অপি করিমের সঙ্গে।

‘আসলে অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কারটা যাই বলেন না এটি একটি রাতের বিষয়। একটা অ্যাওয়ার্ড নাইট হয়, অনুষ্ঠান হয়; ওই তো, এরপর… পুরস্কার শুধু যে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তি তাও কিন্তু নয়, ধরেন কেউ আপনার পিঠ চাপড়ে দিল এটাও কিন্তু একটা পুরস্কার। কারণ কেউ তো এমনি আপনার পিঠ চাপড়ে দিতে আসবে না। খুব ভালো লাগা থেকে, গভীর মুগ্ধতা থেকে এটা আসে। এটা অনেক বড় পুরস্কার।’

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গে কলকাতার তালতলার একটি গেস্ট হাউজে বসে কথা হচ্ছিল। অভিনয়ে ‘প্রাপ্তি-স্বীকৃতি’ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। হচ্ছিল। গেস্ট হাউজের কিছু কামরা ভাড়া নেওয়া হয়েছে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ইন্দ্রনীল চৌধুরীর ‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ এর শুটিং-এর জন্য। এর আগে চলছিল মহড়া। সেখানেই হানা দেয় ঢাকার একঝাঁক সাংবাদিক।

ছবির অভিনেত্রী অপি করিমও ছিলেন সেখানে। তিনি যখন শুনলেন আমরা আজ শুধু ঋত্বিকের সাথেই কথা বলবো তখন অপি নিজেই আমাদের জায়গা করে দিলেন। ঠোঁটে হাসি এনে বললেন, ‘তাহলে আপনারাই কথা বলুন, আমি বাইরে ঘুরে দেখি।’ ঘরে শুধু ঋত্বিক আর আমরা। কলকাতার জনপ্রিয় এই অভিনেতার মুখে হাসি ঝুলে রইল। হাসির আড়ালেই বেরোচ্ছে প্রতিটি শব্দ, বাক্য।

‘ধরেন কারো সঙ্গে রাস্তায় দেখা হয়ে গেল, বলল আরে তোমার অভিনয়টা দারুণ হয়েছে। আমার ভালো লেগেছে। এটাও কিন্তু আমার কাছে পুরস্কার। তাই অনুষ্ঠান করে অ্যাওয়ার্ড পাওয়া বা দেওয়ার বিষয়ে আমার কোনো মাথাব্যাথা নেই। আমার কাজ সম্পর্কে মানুষ যা বলবো সেটাই প্রাপ্তি। আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তির বিষয়ে আমার আগ্রহ নেই।’

‘ডেব্রি অব ডিজায়ার’ ছবিটিকেও তিনি প্রাপ্তির খাতায় ফেলছেন। বললেন, ‘আমি তো এমন ছবিই করতে চাই। ছবির গল্পে গভীরতা থাকুক, ভালো লাগা থাকুক তাহলেই না কাজে আনন্দ আসবে। একটা সময় অনেক করেছি, দিনে রাতে করেছি সিনেমা,নাটক। কিন্তু এখন তো একটু আধটু বেছেই কাজ করতে হবে। তারপরেও ব্যস্ত কমেনি। এসব করেই তো আমাকে খেতে হয়,আপনাদের আশির্বাদে করে খাচ্ছি।’

সহজ সাবলীল ঋত্বিক খুব অল্প সময়ে পরদেশের এইসব সাংবাদিকদের আপন করে নিলেন। ‘নিলেন’ শব্দে কিছুটা বাধ্য বাধ্য বিষয় রয়েছে, আদতে বিষয়টি তা নয়। ঋত্বিক যে শুধু ভালো অভিনেতা তা নন- অসম্ভব সম্মোহনী ক্ষমতার মানুষও বটে তিনি। না হলে তার কথায় এতোটা মুগ্ধ হই কী করে। সাধারণত প্রশ্ন উত্তর পর্ব কখনোই আনন্দদায়ক হয় না, কিন্তু ডেব্রি অব ডিজায়ার-এর মহরা কক্ষে কেমন যেন প্রাণবন্ত আড্ডা জমে উঠল। হাসি ঠাট্টায় নানা কাজের কথা উঠে এলো।

ঋত্বিক চক্রবর্তী তার ক্যারিয়ার শুরু করেন বাংলা থিয়েটার কর্মী হিসেবে। অনেক সংগ্রাম করে তিনি আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছেন। তারপরে তিনি ২০০৮ সালে রুদ্রনীল ঘোষ এর সাথে ‘ক্রস কানেকশন’ এ কাজ করার মাধ্যমে বড় পর্দায় আসেন। ঋত্বিকের স্ত্রীর নাম অপরাজিতা ঘোষ দাস। জানালেন পারিবারিক জীবনে দারুণ সুখী তিনি।

আগে যখন ঘুরে বেড়াতাম, থিয়েটার করতাম তখন তো লাইফস্টাইলটা অন্যরকম ছিল। কিন্তু বিয়ের পর কিছু বদলাল। তবে যখন চলচ্চিত্রে ব্যস্ততা বাড়তে লাগলো তখন আমার ঘুরে বেড়ানো আর বাইরে সময় দেওয়ার বিষয়টা কমে গেল। ছুটির দিনে আমি কোথাও যাই না, সারাদিন বাসায় থাকি, বাজার করে আনি। আর ওকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে যাই হে হে…। ঋত্বিক পারিবারিক পরিমণ্ডলেও এমনটা প্রাঞ্জল।

বাংলাদেশের নাটক দেখা হয় ইউটিউবের কল্যাণে। কয়েকটা সিনেমা দেখেছেন পাইরেসি কপি, ‘তাছাড়া উপায় কী?’ প্রশ্নটা ঋত্বিকের। ‘আসলে সংস্কৃতি কখনো বেঁধে রাখা যায় না। আমি জানি কলকাতা শুধু নয়, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের নাটক জনপ্রিয়। কিন্তু টেলিভিশনে দেখার সুযোগ নেই। এটা আমাদেরকে পীড়া দেয়। সংস্কৃতি আটকে রাখা যায় না, এটাকে উন্মুক্ত করে দেওয়া দরকার- বললেন ঋত্বিক।’

বাংলাদেশে ঋত্বিক একববারই এসেছিলেন সেটা শূন্য দশকের গোড়ার দিকে। ঋত্বিক বললেন, ‘থিয়েটারের সাথে ঢাকা গিয়েছিলাম। সারাদিন কাজ করতে করতে ঢাকাটাই দেখা হয়ে ওঠেনি। তবে ঢাকা নিয়ে আমার বেশ আগ্রহ। ডেব্রি অব ডিজায়ারের প্রতি আগ্রহটা কিঞ্চিত সেই অ্যাঙ্গেল থেকেও বলা যায়। মুখিয়ে আছি ডেব্রি অব ডিজায়ার-এর শুটিং ঢাকা কবে শুরু হবে। এবার ঢাকা গিয়ে প্রচুর খাওয়া-দাওয়া করবো। কারণ ঢাকার খাবারের প্রতি আমার লোভ ভীষণ।’

ঋত্বিক কলকাতার একমাত্র অভিনেতা যিনি বাংলাদেশের সর্বাধিক সংখ্যক অভিনেত্রীর সাথে কাজ করেছেন। জয়া আহসান ও জ্যোতিকা জ্যোতির সঙ্গে অভিনয় করেছেন। এখন করছেন অপি করিমের সঙ্গে। সামনে হয়তো আরও অনেকের সঙ্গেই কাজ হবে- বাক্য মনে হলো না শেষ হয়েছে, এরমধ্যে হাসলেন।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT