২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল

‘অস্ত্রের বেআইনি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে’

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০১৮, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ


সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীসহ সন্ত্রাসীদের ধরে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। ‘জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্রের বেআইনি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।’

সোমবার (২১মে) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য প্রেস’-এসব এসব কথা বলেন মানবাধিকারকর্মী ও ট্রান্সপারেন্সি বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি সুলতানা কামাল। সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাকটিভিজম, নেটওয়ার্ক অব নন-মেইনস্ট্রিম মারজিনালাইজড কমিউনিটিস, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যা-রিফর্ম এ ডেভেলপমেন্ট এবং কাপেং ফাউন্ডেশন এ আয়োজন করেছিল।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন- সিএসএর সদস্য আকলিমা ফেরদৌস। এতে কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, এনএনসির কো-অর্ডিনেটর মুজাহিদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সুলতানা কামাল বলেন, ‘দেশে ক্রমাগতই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে, এটা বড়ই উদ্বেগের বিষয়। মাদক ব্যবসায়ীসহ যেকোনও সন্ত্রাসীকে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। যেকোনও অন্যায় অপরাধকে বিচারের আওতায় এনে তার শাস্তি দেওয়া উচিত। অথচ সেটা হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ এভাবে হত্যাকাণ্ড দেখতে চায় না। তাই যদি হবে তাহলে দেশে আইন আদালত কেন। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্রকে এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা বেআইনি। অপরাধীদের আটক করে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।’

সুলতানা কামাল বলেন, “আমরা তো একটা ‍যুদ্ধের মধ্যে নেই। আমরা তো একটা স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে বাস করছি। সেই জায়গায় এরকমভাবে দিনে ৫/৬ জন করে যদি বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়, সেখানে উদ্বিগ্ন হওয়ারই কথা।”

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “এই জন্যই এ সমস্ত ব্যাপারে স্পষ্টভাবে আমাদেরকে অবহিত করতে হবে। প্রত্যেকটা ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিৎ। “আসলেই এখানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছে কি না? কিংবা অন্য কোনোভাবে বন্দুকের অপব্যবহার হচ্ছে কি না? সেটাও আমাদের জানা দরকার। কারণ এই অস্ত্রটা আমরাই তুলে দিয়েছি তাদের হাতে।”

অপরাধী যেই হোক না কেন, তার আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকারের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে সুলতানা কামাল বলেন, রাষ্ট্রের কতগুলো নিয়ম-নীতি রয়েছে, সে অনুযায়ী তাদের বিচার হতে হবে। এর মাধ্যমে কেউ দোষী প্রমাণিত হয় সেই জন্য যে শাস্তি প্রাপ্য সেটা তাকে দিতে হবে। বন্দুকযুদ্ধের’ সমালোচনা করলেও মাদকের মতো একটা ‘বিষাক্ত ব্যাপার’ দমনে কঠোর আইন করে তা প্রয়োগের আহ্বান জানান সুলতানা কামাল। “আমরাও চাই কঠোর আইন হোক, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা যে, আমাদের সংবিধান বলে তো একটা কথা আছে।”

অনুষ্ঠানে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, “পত্রিকা খুলতেই দেখা যাচ্ছে প্রতিদিন বন্দুকযুদ্ধে মানুষ মারা যাচ্ছে। সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে যে, মাদকের বিরুদ্ধে একটা অভিযান চলছে। এই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে আমাদের কারোই দ্বিমত নেই। কিন্তু যে পদ্ধতিতে কাজটি হচ্ছে সেটি সঠিক হচ্ছে কি না, ভেবে দেখা দরকার। “কারণ যে অপরাধী হোক, মাদক ব্যবসায়ী হোক বা মাদক চোরাচালানি হোক অথবা মাদকের সঙ্গে অন্য কোনোভাবে সম্পৃক্ত হোক, সকলেরই মৌলিক অধিকারগুলো আমাদের সংবিধানে আছে। সংবিধানের সেই পন্থা অনুসরণ না করে এটা করার ফলে সুদূরপ্রসারী যে ফলাফল হবে, সেটা আমাদের রাষ্ট্রের জন্য সুষ্ঠু ফল আনবে না।”

সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যাকটিভিজমের সমন্বয়কারী লিসা হায়াৎ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জাতিসংঘের সর্বজনীন পুনর্বীক্ষণ প্রক্রিয়ার (ইউপিআর) আওতায় গত ১৪ মে জেনেভায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ১০৫টি দেশ বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে ২৫২টি সুপারিশ করেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্যও প্রশসাংও করেন তারা। তবে এসবের তুলনায় সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো ছিল ব্যাপক।’

প্রসঙ্গত, মাদক দমনে অভিযান চালাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর দেশের বিভিন্ন জেলায় গত দুই দিনে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযানের সময় মাদক চক্রের সদস্যরা গুলি চালালে পাল্টা গুলিবর্ষণ হয়, তাতেই এদের মৃত্যু ঘটে। তবে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের দাবি, ধরে নিয়ে হত্যা করা হয় তাদের স্বজনদের।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT