১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

অসুস্থ প্রতিযোগিতার নাম বাসে বাসে পাল্লা

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৯, ২০১৮, ৯:০৮ অপরাহ্ণ


ঢাকার মহাসড়কে প্রতিনিয়ত চলে বাসে বাসে পাল্লা। কে কাকে টেক্কা দিতে পারে এই নিয়ে যেন এক গোপন প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মাত্র কিছুদিন আগে দুই বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতার পরিণতিতে তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীবের মৃত্যু কাঁদিয়েছে দেশবাসীকে। তারপর ঝরে গেছে আরো কয়েকটি প্রাণ। পঙ্গু হয়েছে কয়েকজন। কিন্তু থামছে না এই প্রতিযোগিতা।

চলতি বছরের মে মাসের ঘটনা। সদ্যজাত সন্তানের বাবা ৩২ বছরের তরতাজা প্রাণ নাজিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেল চালিয়ে যাত্রাবাড়ী থেকে যাচ্ছিলেন পান্থপথের কর্মস্থলে। মেয়র হানিফ উড়াল সেতুতে উঠতেই তিনি পড়ে গেলেন দুই বাসের প্রতিযোগিতার মুখে। মঞ্জিল ও শ্রাবণ সুপার পরিবহনের দুটি বাস মরিয়া, কে কার আগে যাবে। শ্রাবণ সুপার পরিবহনের বাসটি নাজিমের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে সেতুর সড়কে পড়ে যান। নিমিষে বাসটি চলে গেল তার বুকের ওপর দিয়ে।

মাত্র কয়েকদিন আগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কুনিয়া তারগাছ এলাকাস্থিত তায়েরুন্নেছা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী যুবরাজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মেস থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে ওই হাসপাতালে যাচ্ছিল। তিনি হাসপাতালের গেটের সামনে পৌছলে এনা পরিবহনের দুটি বাস প্রতিযোগিতা করে যাওয়ার সময় ওবারটেকিং করতে গিয়ে একটি বাস ইউসুফকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ১২ জুলাই বিকেলে একই মহাসড়কে প্রতিযোগিতা করে যাওয়ার সময় এক বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই হাসপাতালের চিকিৎসক সাম্মীর শাকির প্রকাশ নিহত হন।

চলতি বছরের মে মাসে সাড়ে ৯টার দিকে কোনাবাড়ী আনসার বিল্ডিংয়ের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের দুটি বাস চন্দ্রা থেকে প্রতিযোগিতা করে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে একটি বাস অন্য বাসকে ওভারটেক করার সময় বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা হেলপার রামচরণ বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

২০১৫ সালের নভেম্বরে রাজধানীর বিমানবন্দর গোলচত্বরে দুই বাসের দ্রুত চলার প্রতিযোগিতার বলি হয়েছেন শফিকুল ইসলাম (২৯) নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। এদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে বলাকা ও সুপ্রভাত বাস একটি অপরটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শফিক পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) বিমানবন্দর জোনে কর্মরত ছিলেন।

২০১৫ সালে শাহবাগে দুটি বাস গতির প্রতিযোগিতায় নামলে একটি বাসের ধাক্কায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়। শাহবাগ মোড়ের একটু আগে শিশু পার্ক ওভার ব্রিজ পেরিয়ে গুলিস্তান থেকে আসা বাস দুটির মধ্যে এ সংঘর্ষে আরও তিনজন আহত হয়।

একই বছর রাজধানীর কারওয়ানবাজারের সিএ ভবনের উল্টোদিকের রাস্তায় একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গেছে। এতে বাসটির চালকের সহকারি (হেলপার) নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে ১২ জন।

প্রত্যক্ষদর্শী আলী আসগর জানান, দুটি গাড়িই পাল্লা দিয়ে চলছিল। সামনের গাড়িটি পেছনের গাড়িটিকে সাইড দিচ্ছিল না। এক পর্যায়ে সামনের গাড়িটি সড়ক বিভাজনের ওপর উঠে সড়কের ওপর উল্টে যায়।

সর্বশেষ আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তরাগামী জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস মিরপুর ফ্লাইওভার থেকে নেমে অপর একটি বাসের সঙ্গে পাল্লা দিলে ঘটনাস্থলেই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। যা নিয়ে স্যোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র প্রতিবাদ।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT