১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

অসুস্থতা আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৯, ২০১৮, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ


পবিত্র কোরআনে
আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না, আর যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন।’
(সূরা তাগাবুন : ১১)

মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্তই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ করুণাস্বরূপ। তবে কখনও কখনও এই করুণাময় মুহূর্তও মানুষের কাছে অপ্রিয় ও কষ্টকর মনে হয়। যেমন অসুস্থতা ও বালা-মুসিবতে বান্দার কষ্ট হয়। কিন্তু মহান আল্লাহ এতে রেখেছেন মহাসফলতা। অসুস্থতার মাধ্যমে তিনি বান্দার ঈমানের পরীক্ষা নেন। তাই বান্দার উচিত সে সময় ধৈর্যধারণ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।’ (সূরা বাকারা : ১৫৫)।
হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মোমিন ব্যক্তির উপমা হলো, সে যেন শস্যখেতের কোমল চারাগাছ। যে-কোনো দিক থেকে তার দিকে বাতাস এলে তাকে নুয়ে দেয়। আবার যখন বাতাসের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, তখন তা সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বালা-মুসিবত তাকে নোয়াতে থাকে।’ (বোখারি : ৫২৪১)। রোগ সৃষ্টির পাশাপাশি মহান আল্লাহ সব রোগের চিকিৎসাও সৃষ্টি করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি, যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি।’ (বোখারি : ৫২৭৬)।
রোগব্যাধির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা কাউকে কষ্ট দিতে চান না; বরং মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কোনো ঈমানদার ব্যক্তির শরীরে একটি কাঁটার আঘাত কিংবা তার চেয়ে অধিক কোনো আঘাত লাগলে আল্লাহ তায়ালা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।’ (মুসলিম : ৬৩২৮)।
আল্লহ তায়ালা যার কল্যাণ ও মঙ্গল চান তাকে বিভিন্ন রোগশোক ও বালা-মুসিবতে লিপ্ত করেন। তাই বান্দার তখন বিচলিত হয়ে ধৈর্যহারা হওয়া উচিত নয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যখন কারও কল্যাণ চান, তখন তাকে বিপদ-মুসিবতে লিপ্ত করে দেন।’ (বোখারি : ৫২৪২)। গোনাহগার বান্দার জন্য গোনাহ থেকে মুক্তি লাভে অসুস্থতা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ একটি নেয়ামতময় মুহূর্ত। কেননা রোগব্যাধির কারণে মুসলমানের গোনাহ মাফ হয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মুসলমানদের ওপর যেসব কষ্ট-যাতনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, রোগব্যাধি ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের কারণে আল্লাহ তায়ালা তার গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেন।’ (বোখারি : ৫২৩৯)।
অপর এক বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, প্রিয় নবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘মুসলমানের ওপর যেসব বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত পতিত হয় এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তার গোনাহ মাফ করে দেন।’ (বোখারি : ৫২৩৮)। রোগব্যাধি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশেই হয়ে থাকে এবং তিনিই এর চূড়ান্ত শিফাদাতা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না, আর যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে, আল্লাহ তার অন্তরকে সৎপথে পরিচালিত করেন।’ (সূরা তাগাবুন : ১১)। অন্যত্র এরশাদ করেন, ‘আর যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাকে কোনো দুর্দশা দ্বারা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী আর কেউ নেই।’ (সূরা আনআম : ১৭)। সুতরাং আমাদের উচিত, দুঃখ-দুর্দশা, রোগবালা সর্বাবস্থাই শুধু আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা।

লেখক : খতিব, বিশ্বনাথপুর মধ্যপাড়া
জামে মসজিদ, কিশোরগঞ্জ

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০, সার্কুলেশন বিভাগঃ০১৯১৬০৯৯০২০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT