১৮ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৩রা কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

অমৃত ভেবে গরল গিলতে যাচ্ছেন ইমরান

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৩, ২০১৮, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ


পাকিস্তানের বেশির ভাগ মানুষ মনে করছে, এ মুহূর্তে ইমরান খান সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ, এমনকি বুদ্ধিজীবী মহলেরও সমর্থন পাচ্ছেন। এরপরও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যত ভোট দরকার, তিনি তা পাবেন কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

দুই দশক ধরে যে অমৃত পানের স্বপ্ন ইমরানকে তৃষ্ণার্ত করে রেখেছে, শেষমেশ যখন তিনি সেই পানপাত্র হাতে পাবেন, তখন হয়তো দেখবেন সেই পাত্র অমৃতের বদলে গরলে পূর্ণ হয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী হতে পার্লামেন্টে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার, তার জন্য তাঁকে অবশ্যই জোট করতে হবে এবং সেই জোট গঠনের সময় তাঁর পছন্দ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে।

সিন্ধু প্রদেশে ইমরানের দল পিটিআইয়ের শরিক দল দ্য গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স যাত্রা শুরুর পরপরই মরমর অবস্থায় চলে গেছে। গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স গঠিত হয়েছিল পিপিপির সাবেক নেতা ও অন্য জাতীয়তাবাদী নেতাদের নিয়ে। এসব নেতা এখন ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ হয়ে গেছেন।

আলেম–ওলামাদের জোট সংগঠন মুত্তাহিদা মজলিশ-ই-আমাল বা এমএমএ সেনাবাহিনীর সমর্থন উপভোগ করলেও তাদের জনপ্রিয়তা খুবই কম এবং ইমরানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আনার মতো প্রয়োজনীয় আসন তারা পাবে না বলেই মনে হচ্ছে। আরেক দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান-এর অবস্থাও তা–ই। অন্যদিকে এমকিউএমের ভাগ্য সুতোয় ঝুলছে। ফলে ইমরানের দল পিটিআইয়ের সমমনা দলগুলো কোনোটির ওপরই তাঁর ভরসা থাকার কথা না।

জোট গঠনের জন্য এখন বাকি থাকল একমাত্র পিপিপি। ইমরান খান বরাবরই পিটিআইয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই গাঁটছড়া বাঁধবেন না বলে দাবি করে এসেছেন। তবে রাজনীতিতে যেহেতু শেষ কথা নেই, সেহেতু তাদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ইমরান জোট বাঁধতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইমরানের দিক থেকে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব এলে পিপিপি সহজেই তা সুযোগ হিসেবে লুফে নেবে। ইমরানের ক্ষমতায় যেতে পিপিপির সমর্থন পাওয়া কতটা জরুরি, তা জারদারি ভালো করেই বুঝতে পারবেন। ফলে জারদারি যে নিজের সমর্থন দেওয়ার জন্য চড়া মূল্য হাঁকাবেন, সেটি নিশ্চিত। পিপিপির কিছু নেতা এখনো আছেন, যাঁরা আদর্শে অনড়। তাঁদের বাদ দিলে দলটির বেশির ভাগ নেতাই চাইবেন জোট বেঁধে মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিতে পারাটা দোষের কিছু হবে না। আর জারদারি তাঁর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলাগুলো থেকে রক্ষাকবচ বাগিয়ে নিতে চাইতে পারেন।

এসব বিবেচনায় নওয়াজ শরিফের সমর্থকদের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? এটা ঠিক যে পিএমএল-এনের জনপ্রিয়তা কম নেই। কিন্তু নওয়াজকে কারামুক্ত করতে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করার মতো অনুগত সমর্থকের সংখ্যা খুব কমই আছে। তারপরও নওয়াজ সমর্থকেরা যে ইমরানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বড় বাধা হতে পারবে না, তা জোর দিয়ে বলা যায় না। নওয়াজ সমর্থকেরা পাঞ্জাবে মরণপণ লড়াই চালিয়ে ভালো অবস্থানে যেতে পারেন, তাহলে হয়তো সেনাবাহিনীর ছক পাল্টে যেতেও পারে।

ধরা যাক, ‘এলিয়েনদের’ আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ও তাদের হাত ধরে শেষ পর্যন্ত ইমরানই প্রধানমন্ত্রী হলেন; কিন্তু তারপর? শুরুতেই তাঁকে অর্থনীতি চাঙা করতে হবে এবং রুপির ধারাবাহিক মূল্যপতন ঠেকাতে হবে। এ বিষয়ে তিনি যেভাবে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, সেই মাপের সাফল্য পেতে যে প্রস্তুতি ও সামর্থ্য থাকা দরকার, তার বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ বা লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেননি। এক বছরের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন বলে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটা বাস্তবতার সঙ্গে খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাস্তবতা হলো, আমাদের লাইফ সাপোর্টে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে যেকোনো প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রুপির দাম ক্রমাগত কমছে, এতে পণ্য আমদানির খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম তরতর করে বেড়ে যাচ্ছে বলে আমাদের জ্বালানি খরচও বাড়ছে। এ দিক থেকে নওয়াজের ভাগ্য ভালো ছিল। তাঁর আমলে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি মাত্র ৩০ ডলার। সেই তেলের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার। অবস্থা যেদিকে গড়াচ্ছে, পাকিস্তানকে কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য চীনের কাছ থেকে শতকোটি রুপি ধার করতে হবে।

এরপর আছে বিচার বিভাগের চাপ। নির্বাহী বিভাগ যে বিচার বিভাগের হাতে বন্দী, সেটি নতুন করে বলার কিছু নেই। সরকার চাইলেও অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে পরিচালিত আদালতের কারণে স্বাধীনভাবে কিছু করতে পারবে না। এত প্রতিকূলতা নিয়ে ইমরানকে গদিতে বসতে হবে। আর এরপরই জনরোষ, গণমাধ্যমের সমালোচনা, সেনাবাহিনীর চাপ—সব ছেঁকে ধরবে তাঁকে।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT