২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৫ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, হেমন্তকাল

অনুষ্ঠানের মৌসুমে বাড়ল মসলার দাম

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ৫, ২০১৮, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ


শীতকালে দেশে বিয়ে, বনভোজনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ে। এসব অনুষ্ঠানে খাবার রান্নার জন্য মসলা ও মাংসের চাহিদাও বেশি থাকে। বাজারে তার প্রভাবও রয়েছে। জিরা, এলাচি, কিশমিশ, পোস্ত দানা ও পেস্তার দাম বেড়েছে। পাশাপাশি মুরগির মাংসের দামও বাড়তি।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় মসলার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে মাসখানেক আগে, যার প্রভাব এখন খুচরা বাজারে পড়েছে।

এ সপ্তাহে বাজারে আরেকটি পণ্যের দাম বেড়েছে, সেটি ডিম। সার্বিকভাবে এখন সবজি, আটা, ডাল, চিনি, রসুন, আদা ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্বস্তিকর পর্যায়ে আছে। চালের দাম আগের মতোই চড়া। নতুন আমন চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও দাম কমেনি। পেঁয়াজের দামও নাগালে আসেনি। এরই মধ্যে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য প্রতি টনে ৮৫০ ডলারের মেয়াদ ২০ দিন বাড়িয়েছে।

শীতে দেশে সামাজিক অনুষ্ঠান বেশি হয়। এসব অনুষ্ঠানে মাংস ও অন্যান্য পদ রান্নার অপরিহার্য উপাদান জিরা। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দুই ধরনের জিরার দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি জিরা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকান হাজী মিজান এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, জিরার পাশাপাশি এলাচির মূল্য প্রতি কেজিতে ২০০ টাকার মতো বেড়েছে। মাঝারি মানের এলাচির দর এখন কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা। তিনি দাবি করেন, কিশমিশের দর কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়েছে। যার খুচরা দর এখন কেজিপ্রতি ৩৬০ টাকা। এ ছাড়া দারুচিনি কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা ও লবঙ্গ ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় মসলার চাহিদা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের আরেক মুদি দোকানের বিক্রেতা শাহপরান বলেন, পোস্ত দানার দর কেজিতে প্রায় ৫০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকা, পেস্তা ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায় উঠেছে।

ভারতীয় বিভিন্ন পত্রিকার খবর অনুযায়ী, সেখানে বিভিন্ন মসলার দর নভেম্বর ও ডিসেম্বর
মাসে বেড়েছে। এটাই দেশের বাজারে দর বাড়ার কারণ বলে দাবি করেন পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির মো. এনায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেছে। পাশাপাশি এলাচি আমদানির বুকিং দেওয়া যাচ্ছে না।

অনুষ্ঠানে রোস্ট রান্নার জন্য সোনালিকা জাতের মুরগির কদর বেশি। সপ্তাহ দু-এক আগেও একটি মাঝারি আকারের মুরগির দর ১৭০-১৮০ ছিল, যা এখন ২০ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজিপ্রতি দর ১০ টাকা বেড়ে ১৩৫-১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এত দিন প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম ৭০-৭৫ টাকায় মিলত। তা এখন কিনতে গেলে ৮৫ টাকা দিতে হবে।

বাজারে গত ছয় মাস চালের দাম মানুষকে বেশি ভুগিয়েছে। ৩৫ টাকা কেজির মোটা চাল উঠেছিল ৫০ টাকায়। এর দর গত মাসের শুরুতে ৪২ টাকায় নামে। নতুন আমন ওঠার পর মোটা চাল আবার কেজিপ্রতি ৪৫-৪৬ টাকায় ওঠে। এ সপ্তাহে চালের দামে কোনো হেরফের হয়নি।

পেঁয়াজের দর কিছুটা কমেছে। খুচরা বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেমেছে ৭০ টাকা কেজিতে। যা কিছুদিন আগেও ৮০ টাকা ছিল। দেশি বড় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৯০ টাকা ও ছোট পেঁয়াজ ৮০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের আড়তে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৭-৫৮ টাকা দরে বিক্রি হয়। সেখানে দেশি পেঁয়াজের দর কেজিতে ১০ টাকা কমলেও ভারতীয় পেঁয়াজের দর ৫-৬ টাকা বেড়েছে।

শ্যামবাজারের একজন আমদানিকারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্য থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়। সেখানে এ মাসের মাঝামাঝিতে একটি উৎসব আছে। এতে পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২০ জানুয়ারির পর পেঁয়াজের দাম কমবে আশা করা যায়।

ভারতীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়া এক খবরে জানায়, গত ১ জানুয়ারি ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য ৮৫০ ডলারের মেয়াদ ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে। গত নভেম্বরের শেষ দিকে নিজেদের বাজার সামাল দিতে ভারত এ মূল্য বেঁধে দিয়েছিল। এতে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

Leave a Reply

৯৭/৩/খ, উত্তর বিশিল, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৭১২-৬৪৩৬৭৩, বার্তা বিভাগঃ ০১৭১২-৬৪৪৩৫০
ইমেইলঃ [email protected], [email protected]

সম্পাদক:
মোঃ সুলতান চিশতী

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ
মহসিন হাসান খান (বুলবুল)

নির্বাহী সম্পাদকঃ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ
মোঃ আতোয়ার হোসেন

আইন উপদেষ্টাঃ
শাহিন সরকার


.: Developed By :.
Great IT